Wednesday, October 10, 2018

নারায়ণগঞ্জের দর্শণীয় স্থান সমূহ


নারায়ণগঞ্জের দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্যঃ পানাম নগর, আড়াইহাজার, আদমজী জুট মিল, সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহের সমাধি (১৩৮৯-১৪১১), বাবা সালেহ মসজিদ (১৪৮১), গোয়ালদী মসজিদ (১৫১৯), সুলতান জালাল উদ্দিন ফতেহ শাহের এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ (১৪৮৪), হাজীগঞ্জের দূর্গ, সোনাকান্দা দুর্গ, কদমরসুল দরগাহ, বন্দর শাহী মসজিদ, লোকশিল্প জাদুঘর, বিবি মরিয়মের সমাধি, লাঙ্গলবন্দ মন্দির (পূন্যস্নানের জন্য হিন্দু ধর্মালম্বীদের র্তীথস্থান), ফতুল্লা জাতীয় ক্রিকেট ষ্টেডিয়াম ও এডভ্যাঞ্চার ল্যান্ড।

১) শেখ রাসেল নগর পার্ক


সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে লেক বা পার্কটির কাজ এখন এমন ভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে এটা যখন জনগনের জন্য উম্মুক্ত করা হবে তখন এই পার্ক বা লেকটি হাতিরঝিল লেককেও ছাড়িয়ে যাবে। পরিবেশ হবে হাতির ঝিলের চেয়েও মনোরম। দেশের একটি অন্যতম আকর্ষনীয় পার্কি হিসাবে এটা বিবেচিত হবে এবং এই পার্ক দেকতে প্রতিদিন আসবে হাজার হাজার পর্যটক। পার্কটি সকলের জন্যই উন্মুক্ত। 

আসবেন কীভাবেঃ 
বি বি রোড থেকে কয়েকটি যায়গাই আছে পার্কে যাওয়ার। ২ নং রেল গেইট হতে মিন্নত আলী শাহ্ চিশতী রহঃ দেওভোগ রোড  দিয়ে পার্কে হেঁটেই আসতে পারবেন। অনুরুপ মন্ডলপাড়া দিয়েও হেঁটে পার্কে আসতে পারবেন। চাষাড়া দিয়ে রিক্সাযোগে আসতে পারবেন পার্কে। 



২) বাংলার তাজমহল


বিশ্বের প্রাচীন সপ্তাশ্চর্য আগ্রার তাজমহলের আদলে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার পেরাব গ্রামে নির্মিত হয়েছে অনুপমশৈলীর স্থাপত্যে বিশ্বের ২য় বাংলার তাজমহল । বাংলার তাজমহল আগ্রার তাজমহলের মডেলেই গড়া হয়েছে। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৩৩ কিলোমিটার। তাজমহলের মূল ভবন স্বচ্ছ ও দামি পাথরে মোড়ানো। এর অভ্যন্তরে চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক আহসানউল্লা মনি ও তার স্ত্রী রাজিয়া দু’জনের কবরের স্থান সংরক্ষিত আছে। চার কোণে চারটি বড় মিনার, মাঝখানে মূল ভবন, সম্পূর্ণ টাইলস করা। সামনে পানির ফোয়ারা, চারদিকে ফুলের বাগান, দুই পাশে দর্শনার্থীদের বসার স্থান। এখানে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রাজমনি ফিল্ম সিটি রেস্তোরাঁ, উন্নতমানের খাবার-দাবারের ব্যবস্থা। রয়েছে রাজমনি ফিল্ম সিটি স্টুডিও। ইচ্ছা করলে যে কোনো দর্শনার্থী এখানে ছবি তুলতে পারবে। তাজমহলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন হস্তশিল্প সামগ্রী, জামদানি শাড়ি, মাটির গহনাসহ আরও অন্যান্য পণ্য সামগ্রী।

তাজমহলের কাছাকাছি পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম মিসরের পিরামিডের আদলে গড়ে তোলা হয়েছে পিরামিড। করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভাস্কর। এখানে ইন্দিরা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি ভাস্কর্য নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়াও পাশেই রয়েছে, শুটিং স্পট সেখানে যে কোনো নাটক, সিনেমার সব ধরনের শুটিং করা সম্ভব। আরও রয়েছে, ২৫০ আসনবিশিষ্ট সিনেমা হল ও সেমিনার কক্ষ। সুইমিংয়ের কাজ চলছে, তার সঙ্গে পরিকল্পনা রয়েছে আইফেল টাওয়ার করার। বর্তমানে দেশ-বিদেশ থেকে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক ভীড় করছেন তাজমহল দর্শনের জন্য। তাজমহল (Tajmahal) এর স্থান সহজে চেনার জন্য মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে নির্দেশনার সাইনবোর্ড।

তাছাড়া তাজমহল দেখা শেষে মুড়াপাড়ার জমিদার বাড়ি, পানাম নগর, লোকশিল্প জাদুঘর, চৌদ্দার চর, জিন্দাপার্ক ঘুড়ে আসতে পারেন।

খোলার সময়সূচী ও টিকেট মূল্য

তাজমহল প্রতিদিন খোলা থাকে সকাল ১০ থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। জনপ্রতি প্রবেশ ফি ৫০ টাকা।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে বাংলার তাজমহলে খুব সহজেই যাওয়া যায়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে কুমিল্লা, দাউদকান্দি অথবা সোনারগাঁগামী যেকোনো গাড়িতে চড়ে মদনপুর বাসস্ট্যান্ডে নামতে হয়। সেক্ষেত্রে ভাড়া লাগে ১৫ টাকা। সেখান থেকে সিএনজি বা স্কুটারে জনপ্রতি ২৫ টাকা ভাড়ায় সহজে যাওয়া যায় তাজমহলে। অন্যভাবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে ভৈরব, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জগামী যেকোনো গাড়িতে চড়ে বরপা বাসস্ট্যান্ডে নামতে হয়, সেক্ষেত্রে ভাড়া হবে ২০ টাকা। এখান থেকে সিএনজি স্কুটারে জনপ্রতি ১০ টাকা ভাড়ায় পৌঁছে যেতে পারেন তাজমহলে।

৩) আদমজী   ই পি জেড


এশিয়ার বৃহত্তম পাটকল আদমজী জুট মিল। অব্যাহত লোকসানের অজুহাতে সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আদমজী জুট মিলটি ২০০২ সালের ৩০ জুন চিরতরে বন্ধ করে দেয়। এরপর মিলটি বেপজার কাছে হস্তান্তর করা হলে ২০০৬ সালের ৬ই মার্চ আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (আদমজী ইপিজেড) এর যাত্রা শুরু হয়। আদমজী বন্ধের পর জুট মিল থেকে ইপিজেডে পরিণত হয়ে আদমজী তার ঐতিহ্য ছাড়িয়ে অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে অবদান রাখছে। বর্তমানে আদমজী ইপিজেডে অর্ধ লক্ষ শ্রমিক কাজ করছে। পুরো আদমজী এলাকা কর্মমুখর হয়ে উঠেছে। সিদ্ধিরগঞ্জ ফিরে পেয়েছে তার পুরানো ঐতিহ্য।
ইপিজেড সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৯১ দশমিক ১২ একর জমির ওপর আদমজী ইপিজেড (এইপিজেড) স্থাপিত। এতে মোট প্লটের সংখ্যা ২২৯টি। ইতোমধ্যে ৭০টি দেশি-বিদেশি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে দেশি মালিকানাধীন ২৩টি, বিদেশি মালিকানাধীন ২৭টি এবং যৌথ মালিকানাধীন ২০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। ১০টি প্রতিষ্ঠান নির্মাণাধীন রয়েছে। বর্তমানে ৬০টি কারখানা চালু রয়েছে। প্রতিটি প্লটের আয়তন ২ হাজার বর্গ মিটার। কোনো কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান ১০ এর অধিকও প্লট বরাদ্দ নিয়ে কারখানা গড়ে তুলেছেন। এসব কারখানায় গার্মেন্ট, জিপার, কার্টন, হ্যাঙ্গার, লেভেল, ট্যাগ, জুতা, সোয়েটার, টেক্সটাইল, মুজা, জুয়েলারি, পলি ও ডায়িংসহ ইত্যাদি পণ্য উত্পাদিত হচ্ছে। যা শতভাগ রপ্তানিযোগ্য। বর্তমানে বিনিয়োগের পরিমাণ ৩,২৯১ কোটি টাকা। ৬০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৫৩ হাজারেরও বেশি  শ্রমিক ও ৫ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন। এর মধ্যে বিদেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীও রয়েছে। আদমজী ইপিজেডে হংকং, কানাডা, জাপান, রোমানিয়া, সিঙ্গাপুর, জার্মানি, ইউইএ, আমেরিকা, থ্যাইল্যান্ড, ভারত, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ইউক্রেন, দক্ষিণ কোরিয়া, কুয়েত, পর্তুগাল, চীন ও মরিশাসসহ বেশ কয়েকটি উন্নত দেশ বিনিয়োগ করেছে। চলতি বছরে আদমজী ইপিজেড থেকে প্রায় ৪৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে।
আদমজী বন্ধ হওয়ার পর এলাকাটি মৃত প্রায় নগরীতে পরিণত হলেও আদমজী ইপিজেড চালু হওয়ার পর ধীরে ধীরে এলাকায় শ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্য বৃদ্ধি পেতে থাকে। বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার পূর্বের আদমজীর কর্মচাঞ্চল্য ছাড়িয়ে গেছে। আদমজী ইপিজেডের কারণে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। এলাকার হাট-বাজারে ক্রেতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এক সময় দোকানীরা অলস সময় কাটালেও এখন বিক্রির ধুম। দোকানীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাড়িওয়ালারাও বেশ খুশি। এখন বেশি টাকায় ঘর ভাড়া দিয়ে তারাও বেশ ভালোই আছে। আদমজী ইপিজেডের কারণে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থারও পরিবর্তন হয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হতে প্রায় ২ কিলোমিটার দক্ষিণে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন এলাকায় আদমজী ইপিজেড অবস্থিত।


৪) হাজী বাবা ছালেহ ইয়ামনী মাজার

শীতলক্ষ্যা নদীর ওপারে আছে বন্দর নামক এলাকা, সেখানেই ছালেহ নগর। 

৫) এডভেঞ্চার ল্যান্ড পার্ক


নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্মিত এডভেঞ্চার ল্যান্ড বিনোদনের অনন্য এক মাধ্যম। যা পঞ্চবটিতে অবস্থিত। চাষাড়া হতে রিক্সা অথবা বেবী যোগে সহজেই যেতে পারবেন এই বিভিন্ন রাইড সমৃদ্ধ  এই পার্কে। 

পার্কে প্রাথমিকভাবে ৩২ ধরনের রাইড আছে। এর মধ্যে শুধু শিশুদের জন্য করা কিডস জোনে ১২ ধরনের রাইড বসানো হয়েছে। সবার উপযোগী রাইড রয়েছে আরও ১০ ধরনের। এগুলো হচ্ছে_ ৮০ ফুট উঁচু চড়ক গাছ বা ওয়ান্ডার হুইল, একই উচ্চতার মুভিং টাওয়ার, শান্তা-মারিয়া, হানি সুইং, প্যারাট্রুপার, সোয়ান অ্যাডভেঞ্চার, পার্কের চতুর্দিকে ভ্রমণকারী ফ্যামিলি ট্রেন, ঘোড়ার রাইড বা মেরিগো রাউন্ড, টুইস্ট স্পিডি, বাম্পার কার। এ ছাড়া অক্টোপাস, নাইন ডি থিয়েটার,ওয়াটারল্যান্ড, রোলার কোস্টারসহ আরও ছয় ধরনের রাইড।পার্কে ঢোকার জন্য  ১৫০ টাকা প্রবেশ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

৬) সোনাকান্দা দূর্গ



৭) গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ্  এর মাজার



৮) গোয়ালদী মসজিদ



৯) হাজীগঞ্জ কেল্লা



১০) বিজয় স্তম্ভ ,শহীদ মিনার, মিড টাউন



১১) কদম রসূল দরগাহ্



১২) মেরী এন্ডারসন



১৩) পানাম সিটি জাদুঘর

১৪) সূবর্ণ গ্রাম রিসোর্ট
 

১৬) সোনারগাঁ জাদুঘর



মায়াদ্বীপ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার বারদী ইউনিয়নের মেঘনা নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চল মায়াদ্বীপ। অবিনাশী মেঘনা নদীর ঠিক মাঝখানে জেগে ওঠা একটা ত্রিভুজ আকৃতির চর। দ্বীপটা বেশি একটা বড় না তবে চারিপাশে শুধু সবুজ আর সবুজ। সবুজ দ্বীপের ত্রিভুজের ঠিক মাথায় দাঁড়িয়ে আকাশ পানে চোখ বন্ধ করে দুই হাত প্রসারিত করে কয়েক মুহূর্ত এখানে কাটিয়ে ফেলার নামই জীবন! নদী থেকে উঠে আসা সতেজ-নির্মল বাতাস একটানা বইতে থাকে এখানে। সাঁই সাঁই বাতাসে উড়তে থাকা চুল জানিয়ে দেয় মুক্তির আনন্দ! ইট-কাঠের জঞ্জাল থেকে মুক্তির আনন্দ। জীবন এখানে হাসে গায়।

কিভাবে যাবেন

রাজধানী ঢাকার গুলিস্তান থেকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েক মিনিট পরপর বিভিন্ন বাস ছেড়ে যায়। বাসে গিয়ে সোজা নামতে হবে সোনারগাঁওয়ে। তারপর সেখান থেকে ইজি বাইকে বৈদ্যের বাজার নেমে নৌকা ভাড়া করে যেতে হবে। সময় লাগবে ৪০ মিনিটের মত। সারাদিনের জন্য নৌকা ভাড়া পড়বে ১০০০-১২০০ টাকা পর্যন্ত।

একটা কথা মনে রাখবেন, সন্ধ্যার পর ওখানে থাকা চলবে না। নৌকা এমনভাবে ছাড়বেন যাতে সন্ধ্যার আগে বৈদ্যের বাজার এসে পৌছায়। বন্দর এলাকা বৈদ্যের বাজারে প্রয়োজনীয় সকল কিছু কিনতে পাওয়া যায়।

সায়রা গার্ডেন রিসোর্ট

নারায়ণগঞ্জ জেলার মদনপুরের নাজিম উদ্দিন ভূইয়া কলেজের বিপরীতে নিরিবিলি পরিবেশে গড়ে উঠেছে বিলাসবহুল সায়রা গার্ডেন রিসোর্ট। ঢাকা থেকে মাত্র ২২ কিলোমিটার দূরের এই রিসোর্টটি ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার ভ্রমণপিপাসুদের কাছে সাড়া জাগিয়েছে। কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্যে এ বিনোদন কেন্দ্রটিতে বিশাল পুকুরের এক পাশে রয়েছে ছোট ছোট কটেজ, আছে পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকার উপযোগী বড় কক্ষ। খাবার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে আধুনিক বিনোদনের সব ব্যবস্থাই রয়েছে সায়রা গার্ডেন এন্ড রিসোর্ট (Shaira Garden Resort) এ।

সায়রা গার্ডেন রিসোর্ট এ রয়েছে ৭ ধরনের রুম যাতে আছে টিভি, এসি সুবিধা, ওয়াইফাই, জিমনেশিয়াম, জেনারেটর, সুইমিংপুল, বার-বি-কিউ, ফিশিং, লন্ড্রি সার্ভিস, কার পার্কিং, গরম এবং ঠান্ডা পানি সরবারহ সহ আধুনিক সকল সুবিধা। আছে ২৫০ লোকের ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন কনফারেন্স হল।

যোগাযোগ

বুকিং এর জন্যে যোগাযোগ করতে চাইলে – +৮৮০১৭০০৬৯১৪৩৯
ফোন নাম্বার – +৮৮০১৯৭৫৮৮৮৭২৮, +৮৮০১৭৪৬০৮০৮৫৬, +৮৮০১৭৮৭৬৯৬৫২৮, +৮৮০১৭৮৭৬৬২২৯৫
ই-মেইল – shairagarden2010@gmail.com
ফেইসবুক – www.facebook.com/ShairaGardenResort
ওয়েবসাইট – www.shairagardenresorts.com

বারদী লোকনাথ আশ্রম

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার বারদী ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম অবস্থিত। লোকনাথ ব্রহ্মচারী এটি তৈরী করেছিলেন। শ্রী শ্রী বাবা লোকনাথ ব্রম্মচারীর আশ্রমের ঠিক দক্ষিণের উঠোনে, তাঁর সমাধিস্থলের পশ্চিমে, মূল গেটের ঠিক সামনে, পথ আগলে শত বৎসর ধরে কালের নানা ঘটনার সাক্ষী যে হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, সে হলো বিশাল আকৃতির একটি বকুল গাছ। সে আজও তেমনি করে ছায়া দেয়। দেয় অসংখ্য পাপড়িযুক্ত হালকা মাটি রঙা ছোট ছোট সুগন্ধি ফুল। আশ্রমের ভেতরে লোকনাথ ব্রহ্মচারীর বিশাল তৈলচিত্র। এখানে সকাল সন্ধ্যা পুজা হয়। মুল আশ্রমের পেছনে খোলা একটু উঠান পেরিয়েই বিশাল পাঁচতলা ভবনের যাত্রীনিবাস। পশ্চিমে আরও দুটি বিশালাকার যাত্রীনিবাস। যাত্রীদের যে কেউ থাকতে পারবে এখানে। এই জন্যে কোন অর্থ দিতে হবে না। একটু অবাক করনের বিষয়ই বটে, বর্তমান যুগে বিনে পয়সায় রাত যাপন।

প্রতি বছর উনিশ জৈষ্ঠ এখানে সপ্তাহ ব্যাপী মেলা বসে। ১২৯৭ সালের এই দিনে পরমপুরুষ শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রম্মচারী মৃত্যুবরণ করেন। তার এই মহাকাল প্রয়াণের দিনটিকে ভক্তি শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে স্মরণ করার জন্যই এই মেলার আয়োজন হয়। আশ্রমের ঠিক সামনে বিশাল সবুজ মাঠ। এখানেই মেলা বসে। এই মেলাকে কেন্দ্র করে বিশাল আয়োজন করা হয় এখানে। নানান এলাকা থেকে হাজারও পন্য আসে। আসে বাহারী তৈজসপত্র, আহারের ফল ফলাদি আরও কত কি। বহুদেশে বহু ধর্মাবলম্বী মানুষের আগমন ঘটে এই মেলায়। এ এক বিশাল আয়োজন। এক সপ্তাহব্যপি চলতে থাকে রাতদিন।

বারদীর লোকনাথ আশ্রম (Baba Lokenath Brahmachari Ashram) এখন শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থ স্থানই নয়, বরং ধর্ম বর্ণ জাতি নির্বিশেষে সকল ধর্মের, সকল মানুষের কাছে এক মিলন মেলায় রুপ নিয়েছে। নাগরিক ব্যস্ততা আর ইট-কাঠের জীবন নিয়ে যখন ক্লান্ত দেহ-মন, আর ঘুম ভাঙ্গা থেকে শুরু করে ঘুমুতে যাওয়া পর্যন্ত সামগ্রিক জীবনের একঘেয়েমিতে হাঁপিয়ে উঠার আগেই ঘুরে আসতে পারেন “বারদী”, শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম থেকে।

কিভাবে যাবেনঃ

ঢাকা থেকে বারদীর দূরত্ব বড়জোর ঘণ্টা দুয়েকের পথ। গুলিস্তান থেকে প্রতি ঘণ্টায় সরাসরি বারদীর উদ্দেশে বাস ছেড়ে যায়। ঢাকা থেকে মোগড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডে নেমে স্কুটার নিয়েও যাওয়া যায়। ভাড়া মাত্র ৬৫/- টাকা। সোনারগাঁও চারু ও কারুশিল্প জাদুঘর থেকেও সরাসরি বারদী যাওয়া যায়।

জিন্দা পার্ক

গন্তব্য যদি হয় খানিকটা দূরে, আর হাতে যদি থাকে সারা দিনের সময়, তাহলে ঘুরে আসতে পারেন নারায়ণগঞ্জের জিন্দা পার্ক থেকে। ঢাকাতে সময় কাটানোর মতো অনেক পার্ক আছে,তবে নোংরামি ও অশ্লীলতার কারনে পার্কগুলোতে যেতে এখন মানুষের ভয় করে৷ ঢাকার যানযট, কোলাহল থেকে কিছুক্ষনের জন্য মুক্তি পেতে হলে ঘুড়ে আসা উচিত জিন্দা পার্ক থেকে৷ অসাধারন স্থাপত্যশৈলীর ব্যাবহার ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পার্কটিতে৷ পার্কটি কোন সরকারি উদ্যাগের ফসল নয়। আবার কোন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নির্মাণও নয়। পার্কটি তৈরী হয়েছে এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং তাদের প্রাণান্ত অংশগ্রহনের মাধ্যমে। এলাকার ৫০০০ সদস্য নিয়ে “অগ্রপথিক পল্লী সমিতি” ১৯৮০ সালে যাত্রা শুরু করে। এ দীর্ঘ ৩৫ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম আর ত্যাগের ফসল এই পার্কটি। এ রকম মহাউদ্দেশ্য, এত লোকের সক্রিয় অংশগ্রহন এবং ত্যাগ স্বীকারের উদাহারণ খুব কমই দেখা যায়। অপস ক্যাবিনেট, অপস সংসদ এবং অপস কমিশন নামে পার্কটিতে ৩টি পরিচালনা পর্ষদ রয়েছে। বর্তমানে জিন্দা গ্রামটিকে একটি আদর্শ গ্রাম ও বলা হয়৷

জিন্দা পার্ক এর অবস্থান নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে। ১৫০ এখর জায়গা জুড়ে এটি বিস্তৃত। ২৫০ প্রজাতির ১০ হাজারের বেশী গাছ-গাছালী আছে পার্কটিতে। গাছের এই সমারোহ এর পরিবেশকে করেছে শান্তিময় সবুজ, কলকাকলীতে মুখর করেছে অসংখ্য পাখীরা। শীতল আবেশ এনেছে ৫ টি সুবিশাল জলাধার। তাই গরম যতই হোক পার্কের পরিবেশ আপনাকে দেবে শান্তির ছোঁয়া।

প্রবেশ টিকেট – ১০০ টাকা৷

ফ্যামিলি পিকনিকের জন্য জিন্দা পার্ক (Zinda Park) এখন বেশ পরিচিত জায়গা। কাঠের ব্রিজ পার হয়ে দিঘির মাঝামাঝি তৈরি করা বাঁশের টি রুমে বসে প্রিয়জনের সঙ্গে এক কাপ চা কিংবা জলে পা ডুবিয়ে বসে থাকার সময়গুলো দারুণ উপভোগ করবেন। সঙ্গে গাড়ি না থাকলেও সমস্যা নেই। বাড়ি ফেরার জন্য পার্কের সামনেই পাবেন গাড়ি, সিএনজি। আর হ্যাঁ, পিকনিক করতে চাইলে দু-তিন দিন আগেই যোগাযোগ করুন। পিকনিকের খাবারের ব্যবস্থা পার্ক কর্তৃপক্ষই করে।

খাওয়া দাওয়া এর ব্যবস্থা

খাওয়ার জন্য পার্ক এর ভিতর মহুয়া স্ন্যাকস অ্যান্ড মহুয়া ফুডস রেস্টুরেন্ট আছে। ভাত/ভাজি/ডাল/মাংস ২০০/২৫০ টাকা। তবে পার্কে ঘুরা শেষে ৩০০ ফিট এসে খেলে ভালো হয়। ৩০০ ফিটে খাওয়া ভালো এবং খরচও কম হবে। তবে বাহিরে থেকে খাবার নিয়ে পার্কে যেতে চাইলে অতিরিক্ত ২৫/- জন প্রতি দিতে হবে।

থাকার ব্যবস্থা

জিন্দা পার্ক এ ঘুরতে ঘুরতে যদি কখনও মনে হয় যে রাতে থেকে যেতে পারলে মন্দ হতো না, সেক্ষেত্রেও কোন চিন্তার কারন নেই। কারন রাতে থাকার জন্যে আছে মহুয়া গেস্ট হাউজ।

জিন্দা পার্ক যাওয়ার উপায়

ঢাকা থেকে জিন্দা পার্ক এর দূরত্ব ৩৭ কিঃ মিঃ। ঢাকা থেকে বাস যোগে কাঁচপুর ব্রীজ হয়ে ভূলতা গাওছিয়া হয়ে বাইপাস দিয়ে কাঞ্চন ব্রীজ হয়ে জিন্দা পার্কে আসা যায়। কাঞ্চন ব্রীজ থেকে ৫ মিনিটের হাটার পথ৷ অথবা ঢাকা হতে টঙ্গী মিরের বাজার হয়ে বাইপাস রাস্তা দিয়ে জিন্দা পার্ক আসা যায়, টঙ্গী হতে জিন্দা পার্কের দূরত্ব ২৮ কিঃ মিঃ। সহজ হবে কুড়িল বিশ্বরোড এর পুর্বাচল হাইওয়ে দিয়ে গেলে৷ লেগুনা তে জিন্দা পার্ক ৩০ টাকা নিবে ৷

জিন্দা পার্কের যোগাযোগের ঠিকানা

ওয়েবসাইটঃ http://zindapark.com
ই-মেইলঃ shahin.swd007@gmail.com
ফোনঃ +৮৮০ ১৭১৬২৬০৯০৮, +৮৮০ ১৭১৫০২৫০৮৩, +৮৮০ ১৮১৬০৭০৩
৭৭


No comments:

Post a Comment